নিজস্ব প্রতিবেদক :বিশ্বের র্শীষস্থানীয় সাসটেইনেবল ব্যাংকসমূহের পরিচালকবৃন্দরা ঢাকায় এক সম্মেলনে অংশ
নিচ্ছেন। সম্মেলনে তাঁরা মূল্যবোধ-ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের প্রতি তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুর্নব্যক্ত করবেন। এছাড়াও, একটি
র্নিভরযোগ্য এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য কমিউনিটিতে এবং দেশে দেশে সাসটেইনেবল ব্যাংকিংয়ের র্বাতা ছডি়য়ে দেওয়ার
প্রয়োজনীয়তা সর্ম্পকে আলোচনা করবেন।
পরিবেশগত অবনতি এবং জলবায়ু পরির্বতনের এই ক্রান্তিকালে ৪৩টি দেশের ৭০টি ব্যাংক, ক্রেডিট ইউনিয়ন এবং ক্ষুদ্রঋণ
প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত নেটওর্য়াক – গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুস (জিএবিভি) – ঢাকায় তিন দিনের সম্মেলন
আয়োজন করছে। সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো র্আথিক শিল্পের সাসটেইনেবিলিটি নিয়ে আইডিয়া শেয়ার এবং প্রয়োজনীয় সমাধান
খুঁজে বের করা।
‘ফ্রম পারস্পেকটিভস টু অ্যাকশন: ট্রান্সফরমেশনাল প্র্যাকটিস ইন অ্যাকশন’ থিম নিয়ে ৫০ জনের বেশি প্রতিনিধি, বিশেষ করে
সদস্য-ব্যাংকের সিইও অ্যান্ড এমডি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশে এটি জিএবিভি’র দ্বিতীয় র্বাষিক র্শীষ সম্মেলন।
৮ নভেম্বর, ২০২২ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, এমপি।
প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকটি আলোচনা সেশনে অংশ নেবেন, যেখানে আলোচনা করা হবে ব্যাংকিং শিল্পে গুরুত্বর্পূণ ট্রান্সফরমেশন,
মূল্যবোধ-ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের তা র্পয, ডির্কাবনাইজেশন, র্আথিক অর্ন্তভুক্তি, ক্ষুদ্রঋণ, সাসটেইনেবল ইন্টিগ্রেশন,
জনসম্পদ এবং সাংগঠনিক রূপান্তর বিষয়ে। ১০ নভেম্বর, ২০২২-এ একটি র্সবজনীন ইভেন্টে তারা ব্যাংকিং অন ভ্যালুজ ডে পালন
করবে, যেখানে সকল সদস্য সশরীরে ও র্ভাচুয়ালি যোগদান করবে।
সম্মেলনের অংশ হিসাবে, ব্যবসায় সাসটেইনেবল পদ্ধতি অবলম্বন করে অনুকরণীয় নজির স্থাপন করা ব্র্যাক ব্যাংক-এর
গ্রাহকদের প্রতিষ্ঠানও পরির্দশন করবেন প্রতিনিধিরা।
ব্র্যাক ব্যাংক-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও সেলিম আর. এফ. হোসেন বলেন, “মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকিং
আন্দোলনের সাথে যুক্ত হতে পেরে ব্র্যাক ব্যাংক অত্যন্ত র্গবিত। আমরা বিশ্বাস করি, এই র্বাষিক সভার মাধ্যমে আমরা
আরো অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে র্বাতাটি ছডি়য়ে দিতে পারবো। পাশাপাশি, বাংলাদেশে এবং এর বাইরেও সাসটেইনেবল ব্যাংকিং
আন্দোলনের বীজ বপন করতে পারবো।”
তিনি আরও বলেন, “দায়িত্বশীল র্অথায়নের মাধ্যমে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন এবং পৃথিবীকে আরও সবুজ করার জন্য আন্তরিকভাবে
কাজ করে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। আমরা চেষ্টা করি সবুজ র্অথায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের র্কাবন ফুটপ্রিন্ট কমাতে। আমরা
বিশ্বাস করি, আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় পৃথিবীকে আমরা আরও সমৃদ্ধশালী করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। একই সাথে, দৃঢ়
ভবিষ্যতের জন্য র্সবোত্তম পদ্ধতি গ্রহণ এবং মূল্যবোধ-ভিত্তিক ব্যাংকিং অনুসরণে জিএবিভি-এর সাথে কাজ চালিয়ে যাবো।”
যুক্তরাষ্ট্রের সানরাইজ ব্যাংকস-এর সিইও অ্যান্ড জিএবিভি-এর চেয়ার ডেভিড রাইলিং বলেন, “করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর
এটিই আমাদের প্রথম বিশ্বব্যাপী সশরীরে বৈঠক। বিশ্ব কাঁপানো একাধিক সংকটের মুখে আন্দোলন হিসেবে কীভাবে সাড়া দেওয়া
যায় তা নিয়ে আলোচনা করতে আমরা একত্রিত হচ্ছি। আমি আমাদের আয়োজক, ব্র্যাক ব্যাংক-এর নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞ, যেটি
সকল জিএবিভি সদস্যের জন্য একটি দারুণ অনুপ্রেরণা।”
তিনি আরও বলেন, “একটি দ্রুত পরির্বতনশীল বিশ্বে, নিজেদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যের প্রতি মনোযোগী থাকার পাশাপাশি মানিয়ে
নিতে সক্ষম হয়েছে মূল্যবোধ-ভিত্তিক ব্যাংকগুলো। আমরা প্রচলিত ব্যাংকগুলোর থেকে আলাদা। এর কারণ আমরা কীভাবে
বাহ্যিক চ্যালেঞ্জগুলোতে সাড়া দিই তা নয় বরং আমাদের শুরুর বিন্দু, যা আমাদের সকল র্কাযক্রম র্নিদেশ করে। দ্রুত এবং ক্রমাগত পরির্বতনে র্কাযকরভাবে সাড়া দিতে র্পূণাঙ্গ র্কাযপদ্ধতির প্রয়োজন, যা মানুষ এবং পৃথিবীর মঙ্গল বিবেচনা করে।
এভাবেই গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুস-এর সদস্যরা ব্যাংকিংকে মঙ্গলের জন্য একটি শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন।”
২০০৯ সালে দশটি ব্যাংক দ্বারা জিএবিভি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই ব্যাংকগুলো একটি ন্যায্য, সবুজ এবং আরও
অর্ন্তভুক্তিমূলক র্আথিক ব্যবস্থার প্রয়োজনে বিশ্বাস করে। ব্র্যাক ব্যাংক হলো প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বৈশ্বিক এই
ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র ব্যাংক।
সারা বিশ্বের ৭০টি ব্যাংক, ক্রেডিট ইউনিয়ন এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে জিএবিভি গঠিত। এটি ব্যাংকগুলোর পক্ষে
র্অথনীতি, সমাজ এবং পরিবেশ গঠনে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা পালন করে। জিএবিভি সদস্যগণ র্পাটনারশিপ ফর র্কাবন অ্যাকাউন্টিং
ফাইন্যান্সিয়ালস (পিসিএএফ)-এর মতো উদ্যোগ নিতে এবং বাস্তবায়নে সহায়তা করছে। পিসিএফ হলো র্আথিক প্রতিষ্ঠানগুলোর
ঋণ এবং বিনিয়োগ হতে র্নিগত গ্রিনহাউজ গ্যাস এমিশন (জিএইচজি) পরিমাপ ও প্রকাশের জন্য একটি হারমোনাইজড, ওপেন-
র্সোস টুল। জিএবিভি সম্প্রতি ফিন্যান্স ফর দ্যা ফিউচার অ্যাওর্য়াড দ্বারা ক্লাইমেট লিডার হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং একটি
র্পযবেক্ষক এনজিও হিসাবে সিওপি২৭-এ অংশগ্রহণ করবে।
মূল্যবোধ-ভিত্তিক ব্যাংকগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে মানুষ এবং বিশ্বকেত একত্রে রাখে। আকার, ব্যবসায়িক মডেল,
সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট কিংবা বাজারের ক্ষেত্রে শক্তিশালী বৈচিত্র্যের সাথে তারা একটি সাধারণ লক্ষ্য ভাগ করে নেয়। তাদের
উদ্দেশ্য হলো সম্প্রদায়ের চাহিদা মেটাতে এবং একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে র্অথায়নকে ব্যবহার করা।



































