নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি-বেসরকারি মালিকাধীন নর্দমা, ডোবা, পুকুর, খাল, জলাশয় ইত্যাদি থেকে কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনা নিজ দায়িত্বে অপসারণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ব্যক্তিমালিকানা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই তালিকায় রয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উত্তরা রাজউক বিভাগ, সাধারণ বীমা করপোরেশনের রিয়েল এস্টেট ডিপার্টমেন্ট, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন, বিটিআরসি খিলক্ষেতসহ আরও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এ বর্ষা পরবর্তী শুষ্ক মৌসুমে কিউলেক্স মশার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। কিউলেক্স মশা সাধারণত ময়লা-আবর্জনা, নর্দমা, অপরিচ্ছন্ন ডোবা, নালা, পুকুর, জলাশয় ইত্যাদি স্থানে বংশবিস্তার করে। এসব স্থানে ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা, জলজ উদ্ভিদ থাকলে বারবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। ব্যক্তি মালিকানাধীন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের খাল, ডোবা, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা নিজ নিজ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
তাই নিজ নিজ মালিকানাধীন নর্দমা, ডোবা, পুকুর, খাল, জলাশয় ইত্যাদি থেকে কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনা নিজ দায়িত্বে অপসারণ করে নিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে ডিএনসিসি।
ডিএনসিসির ৫ পার্ক ও খেলার মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পাঁচটি পার্ক ও খেলার মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর ফলে এ পার্ক ও খেলার মাঠগুলো আধুনিকায়নে আর কোনো বাধা নেই। পার্ক ও মাঠগুলো হলো- বনানী পূজা মাঠ, বনানী সি ব্লক পার্ক, মোহাম্মদপুর ত্রিকোণ পার্ক, শিয়া মসজিদ পার্ক এবং মোহাম্মদপুর উদয়াচল পার্ক।
শুক্রবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন বিষয়টি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশান শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৩ অক্টোবরের মধ্যে পার্ক ও খেলার মাঠের সকল অবৈধ দখল উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে এই পাঁচটি পার্ক ও খেলার মাঠ অবৈধ দখলে থাকার কারণে এগুলোর আধুনিকায়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারিত হয়। বনানী পূজা মাঠে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়; বনানী সি ব্লক পার্কে অবৈধভাবে ডেসকোর পরিত্যক্ত সাবস্টেশন ও অফিস রুম এবং বনানী সোসাইটির গার্ড শেড স্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়া মোহাম্মদপুর ত্রিকোণ পার্কে অবৈধভাবে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, রিকশা গ্যারেজ ও নার্সারি স্থাপন করা হয়েছিল। শিয়া মসজিদ পার্কে অবৈধভাবে একটি ক্লাব ঘর, টং দোকান, রিকশা গ্যারেজ স্থাপন করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্দেশে এ চারটি পার্ক ও খেলার মাঠের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এ এস এম মামুন জানান, মোহাম্মদপুর উদয়াচল পার্কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্যে আজ শনিবার ডিএনসিসির পক্ষ থেকে উচ্ছেদ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এই পার্কে অবৈধভাবে একটি ক্লাব ঘর এবং খেলোয়াড়দের থাকার ঘর করা হয়। উচ্ছেদ কর্মসূচির কথা জানতে পেরে অবৈধ দখলদাররা ইতোমধ্যে উদয়াচল পার্কে থাকা সকল অবৈধ স্থাপনা নিজ দায়িত্বে অপসারণ করছে। শতকরা ৭৫ ভাগ মালামাল সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ডিএনসিসির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।



































