আলকামা সিকদার :
চলমান তীব্র দাবদাহের ফলে প্রকৃতি ও পরিবেশের মাঝে আজ মানুষের অত্যাচারে প্রকৃতি দারুন ভাবে রুদ্ররূপ ধারণ করেছে! অবাধে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, প্রাকৃতিক বন ধ্বংস আর পাহাড় কাটার ফলেই প্রকৃতি ক্ষেপে ওঠেছে ব্যাপক ভাবে ! প্রকৃতির এই রুদ্র আচরণ থেকে আমাদেরকে পরিত্রাণের জন্য ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করে ধরিত্রীকে আবার সবুজায়নে ফিরিয়ে আনা এখন অতিব জরুরী । তাহলেই হয়তো প্রকৃতি পাবে আপন পরিবেশ । দাবদাহ কমে আসবে ভূমন্ডল থেকে।
খাদ্য, জ্বালানী, আসবাবপত্র তৈরি, গৃহনির্মাণ, ওষুধ, সৌন্দর্যায়ন প্রকৃতির জন্য আমরা গাছ লাগাই। সবচেয়ে বড়কথা হচ্ছে গাছ থেকে নির্গত অক্সিজেন আমরা বেঁচে থাকার জন্য গ্রহণ করি ।
আমরা জানি কোনো দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অন্তত পক্ষে ২৫% ভূমিতে বনজঙ্গল থাকা দরকার। সেই তুলনায় বাংলাদেশে গাছ নিধন ও নির্বচারে বন ধ্বংসের কারনে পর্যাপ্ত পরিমানে বনভূমি নেই । গত বছরে জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (এফএও) বনবিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের মোট ভূখন্ডের সাড়ে ১৩ শতাংশ বনভূমি রয়েছে । তবে এটা পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এই তথ্য মানতে নারাজ। মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশের মোট আয়তনের ১৭ শতাংশ বনভূমি রয়েছে । প্রকৃত পক্ষে এর লেশ মাত্রও খুজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয়না ।
সত্যি যতি এমনটাই হতো তাহলে আজকে বাংলাদেশের পরিবেশ এতোটা ঘোলাটে কিংবা দাবদাহ পরিলক্ষিত হতো না । আর এ জন্য আমাদের গাছ অবাধে কর্তন ও নির্বচারে বন ধ্বংস কেই দায়ী করা হচ্ছে । সাথে সাথে প্রকৃতির লীলাভূমি টিলা ও পাহাড় কেটে ধ্বংস করছে এক শ্রেণির অসাধূ ভূমি খোররা।
বেশ কিছুদিন ধরে দেশে তীব্র দাবদাহ পরিলক্ষিত হচ্ছে । কিছু দিন পর পর সামান্য বৃষ্টি হলেও তা যৎ সামান্য। যেটাতে গরমের তীব্রতা কমে না বরং আরও বৃদ্ধি পায়। যার ফলে মানুষের জীবন যাত্রা হয়ে ওঠে আরও অসহনীয়। দাবদাহের এ তীব্রতার কারনে দিনকে দিন সারা বিশ্বের তাপমাত্রা আরো বেরেই চলেছে। বাংলাদেশও তার বাহিরে নয়। ৫৮ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চলছে।
তাপমাত্রা এ বৃদ্ধির কারনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে । বিশেষ করে ঢাকা শহরেরমত জানবহুল শহরগুলোতে এর মাত্রা আরও বেশি। আর এর প্রতিক্রিয়া বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের মাঝে। তীব্র এ গরমের কারণে শিশুরা রোগাগ্রস্থ হয়ে হাসপাতাল মুখী হয়ে পরছে অহরহ।
তীব্র এ গরমের কারনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কর্মজীবি মানুষও । শিশুরা পরেছে গরম থেকে ঠান্ডা জনিত নানা রোগের কবলে। সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে এর প্রভাব পরেছে তাকালেই তা বোঝা যায়। এছাড়াও বেড়েছে নানা সব জটিল রোগ।
পরিবেশের ধ্বংসর ও অস্বাভাবিক হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধির মূল কারন হিসেবে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছে , অধিক হারে অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্প কারখানা স্থাপন, যত্রতত্র ইট ভাটা স্থাপন, পাহাড় কাটা, ইট ভাটাগুলোতে অবাধে বনের গাছ কেটে পোরানো হচ্ছে । এর কারনে একাধারে যেমন বায়ু ও পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে তেমনি বনের গাছ কেটে বন ও জীববৈচিত্রকেও ধ্বংস করা হচ্ছে।
এছাড়াও বিষাক্ত গ্যাস কার্বণডাই অক্্রাইড নিঃসরণ, ক্লোরো ফ্লোরো গ্যাস নিঃসরণ, অধিক হারে গাছ কর্তন, নির্বিচারে বন নিধনসহ,পাহাড় টিলা কেটে ধ্বংসসহ পরিবেশের রক্ষা কবচ বিভিন্ন উপাদান যেমন নির্বিচারে বিভিন্ন পশু-পাখিকে হত্যা করা।
আর এ সব রক্ষায় যদি এখনি কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয় তাহলে আমাদের এ পৃথিবীতে বসবাস করা খুবই মুশকিল হয়ে পরবে ।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে বৃক্ষরাজি শব্দ দূষণ ও পরিবেশ দূষণ রোধ করে। এক হেক্টর পরিমাণ মাঝারি বন ১০ ডেসিবল শব্দ হ্রাস করতে পারে । জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ও বিভিন্ন উন্নয়নকাজে বনের জমি ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই সরকারের উচিৎ বর্তমানে বনভূমি রক্ষা করার পাশাপাশি বনের বাইরে বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশের ভাসাম্য ফিরিয়ে আনা অতিব জরুরী।
তাছাড়া আরও বলা হচ্ছে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে অতি মাত্রায় কার্বণ নিঃসরণ এর ফলে ইউরোপের দেশ গুলোতে বরফ গলতে শুরু করেছে এ ছাড়া কার্বণডাই অক্্রাইডের মাত্রা বেশি হওয়ার কারনে সমুদ্রপৃষ্ঠ ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির আরও একটা অন্যতম কারন বলে মনে করা হচ্ছে ।
গাছ পৃথিবীর এ ক্ষতিকর কার্বণডাই অক্্রাইড শোষণ করে, অক্্িরজেন নিঃসরণ করবে। যার ফলে তাপমাত্র বৃদ্ধি কিছুটা ধীর গতি হয় এবং বরফ গলা কমে আসবে। তাই এখন অতিব জরুরী আমাদের এই অক্রিজেন ফ্যাক্টরীকে বাচিঁয়ে রাখার জন্য আমাদেরকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । না হলে পৃথিবীটাকে একটা ধ্বংস স্তুপে পরিনত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশী প্রজাতির পরিবেশের ক্ষতিকারক আকাশিয়া ও ইউকিলিকটাস গাছ বাংলাদেশের ভূমিতে লাগানো চারা উৎপাদন বিক্রয় বিপননসহ সকল কিছুই নিসিদ্ধ করেছে। যার ফলশ্রুতিতে হয়তো বা আশা করা যেতে পারে কিছুটা হলেও পরিবেশের উপকারে আসতে পার।
তাই পরিবেশকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই । কেননা অনেক প্রাণী গাছ খেয়ে বেঁচে থাকে আবার গাছই তাদের একমাত্র আবাসস্থল। বন উজাড়ের কারনে এসব প্রাণী যেমন তাদের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পারছেনা তেমনি আবাসহীন হয়ে পড়ছে। ফলে এসব প্রণী দিনকে দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বন উজারের দরুন নানা জাতের গাছ গাছালি, নানা জাতের প্রাণী আজ বিলুপ্তির পথে।
তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের ভারসাম্য রক্ষার্থে গাছ নিধন বন্ধ করতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কঠোর আইন প্রনয়ন ও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। সেই সাথে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অক্্িরজেন ফ্যাক্টরি গাছ লাগাতে জনগণকে দারুন ভাবে উৎসাহ উদ্দীপনা যোগাতে সরকারি বেসরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতিব জরুরী বলে মনে করা হচ্ছে । তাহলেই হয়তো পরিবেশ রক্ষা পাবে আমাদের এই ধ্বংস লীলা থেকে । সাথে সাথে রক্ষা পাব আমরা মানব জাতী,পরিবেশের সাথে মিশে থাকা বিভিন্ন প্রাণিকুল। কমে আসবে পৃথিবী থেকে তীব্র এ দাবদাহ। বাড়বে অক্্িরজেন ।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।



































