বাঙলা প্রতিদিন প্রতিবেদক : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০ টায় তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে জরুরি প্রেস ব্রিফিং করেন।
ব্রিফিং-এ তারা বিদ্যুৎ ও জ্বলানীর মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিত, পরিমাণ ও ধরণ তুলে ধরেন। পরে এবিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদফতরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুলল ইসলাম।
ব্রিফিং-এ আলোচিত তথ্যাদি সংযুক্ত করা হলো।
বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ নির্ধারণ:
সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা/কোম্পানির বিভিন্ন গ্রাহকশ্রেণির বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রাপ্ত হয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০-২১ মে ২০২৬ তারিখসমূহে গণশুনানি গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন আইনের ধারা অনুসরণে বিদ্যুতের পাইকারি (বাল্ক), সঞ্চালন এবং খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করে।
কমিশনের ৩ জুন ২০২৬ তারিখে জারিকৃত আদেশে অন্তর্ভুক্ত আবাসিক লাইফ লাইন (০–৫০) ইউনিট এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০–৭৫) ইউনিট মূল্যহার পুনর্বিবেচনার জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা/কোম্পানীসমূহের ৪ জুন ২০২৬ তারিখের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি অন্তে আবাসিক লাইফ লাইন (০-৫) ইউনিট এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫) ইউনিট বর্ধিত মূল্যহার কার্যকর না করে পূর্বের মূল্যহার বহাল রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, বিইআরসি-র সিদ্ধান্তে প্রথমে নতুন বর্ধিত ট্যারিফ সকলের জন্য প্রযোজ্য হলেও পরবর্তীতে সরকার নিজ উদ্যোগে আপীল করে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদেরকে বর্ধিত ট্যারিফের আওতামুক্ত রাখার ব্যবস্থা করেছে। মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের ৬৫ শতাংশ এই দুই শ্রেণির (৫০ ও ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) ব্যবহারকারী।
বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
বিইআরসির আদেশ বলছে, পাইকারিতে বর্তমান ইউনিট প্রতি দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে গড় দাম ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। আর খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। অন্যদিকে সঞ্চালন খরচ (গড়) ইউনিট প্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।
নতুন এ দাম জুন থেকেই কার্যকর হচ্ছে।
জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি:
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে একধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্ববাজারে দাম অনেক বেড়ে গেলেও দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার তেলের দাম বৃদ্ধি না করার চেষ্টা করে। পরে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি দাম কিছুটা বাড়ানো হয়। এরপর মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেল-অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়েছে সরকার এবং ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে।
গত রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এতে কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা আর অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
গণপরিবহনে ডিজেল ব্যবহৃত হয়; ফলে ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব গণপরিবহনে পড়বে না বলে আশা করা যায়। পণ্য সরবরাহ তথা নিত্যব্যবহার্য পণ্যের বাজার দরেও এর প্রভাব পড়বে না। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের উপর এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকবে না। বর্ধিত মূল্যের অকটেন আর পেট্রোল প্রাইভেট যানবাহনে ব্যবহৃত হয়।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করে সরকার। সে হিসাবে আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। মার্চের মতো এপ্রিলেও শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখে সরকার। তবে ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাসিক জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিমাণ: ডিজেল – ৩,৩০,০০০-৩,৬০,০০০ মেট্রিক টন, পেট্রোল -৪০,০০০ মে. টন
ও অকটেন – ৩৫,০০০ মে. টন।
মাসিক জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাব্য হার (উপরোক্ত তিন ধরনের জ্বালানীর মধ্যে): ডিজেল – ৮২%, পেট্রোল – ৯% এবং অকটেন –৮%।



































