বাঙলা প্রতিদিন প্রতিবেদক : মরমী সাধক উকিল মুন্সীর ১৪১তম জন্মবার্ষিকী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রদর্শিত হয়েছে তার উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘একতারার ইমাম’। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘সিনেহাট’ ও ‘মোশন বাংলা’।
প্রদর্শনী শেষে চলচ্চিত্রটি নিয়ে আলোচনা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, এই চলচ্চিত্রটি একাধারে একটি বিশ্লেষণাত্মক জার্নির মধ্য দিয়ে গিয়েছে, একই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবন যাপনে যারা গানকে ধরে রেখেছেন তাদেরও জার্নি রয়েছে। চলচ্চিত্রের নামের মধ্যেই সমকালীন প্রসাঙ্গিকতা হাজির হয়েছে।
নির্মাতা অনার্য মুর্শিদ বলেন, চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, উকিল মুন্সী এই সমাজের আলাদা কোনো চরিত্র নয়। তিনি হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিরই একজন অসম্প্রদায়িক উত্তরসূরি।
উকিল মুন্সী একাধারে মসজিদের ইমামতি করেছেন, আবার কৃষ্ণভজন ও মরমী গানও রচনা করেছেন। ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’, অপরাধী হইলেও আমি বন্ধু তর’ ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’- এর মতো কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি।
হবিগঞ্জের রিচি দরবার শরীফের পীর সৈয়দ গোলাম মোস্তফা এই প্রামাণ্যচিত্রে বলেন, উকিল মুন্সী শুধু মসজিদের ইমামই ছিলেন না তিনি একজন পীরও ছিলেন। রিচির পীর সৈয়দ মোজাফ্ফর আহমদ ১২ জন আউলিয়াকে খেলাফত দিয়েছেন, তার মধ্যে উকিল মুন্সী একজন। মোজাফ্ফর আহমদ ছিলেন, শাহ জালাল (রহ) এর সাথে আসা নাসির উদ্দীন সিপাহশালার বংশধর, যিনি ছিলেন ইমাম হোসেনের বংশধর।
‘একতারার ইমাম’ প্রামাণ্যচিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন পিকলু নীল, প্রভাত আহমেদ এবং জন উইলিয়াম। সাউন্ড ডিজাইন করেছেন, রবিউল ইসলাম শশী এবং সম্পাদনা ও রঙবিন্যাস করেছেন লায়লা ফেরদৌসী।
এই প্রামাণ্যচিত্রের অন্যতম একটি বিশেষত্ব হলো এর পোস্টার। সাধক উকিল মুন্সীর কোনো প্রকৃত ছবি ছিল না। আত্মীয় স্বজনদের থেকে শুনে শুনে প্রামাণ্যচিত্রের পোস্টারের জন্য তার একটি ছবি আঁকেন চিত্রশিল্পী এ জেড শিমুল।



































