300X70
বৃহস্পতিবার , ২৯ এপ্রিল ২০২১ | ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
  2. অপরাধ ও দূর্নীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আনন্দ ঘর
  5. আনন্দ ভ্রমন
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচিত খবর
  8. উন্নয়নে বাংলাদেশ
  9. এছাড়াও
  10. কবি-সাহিত্য
  11. কৃষিজীব বৈচিত্র
  12. ক্যাম্পাস
  13. খবর
  14. খুলনা
  15. খেলা

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতে আরও কঠোর হতে হবে

প্রতিবেদক
বাঙলা প্রতিদিন২৪.কম
এপ্রিল ২৯, ২০২১ ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

* সংক্রমণ বেশি হলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে
* নতুন ভ্যারিয়েন্টে তীব্র হচ্ছে হাই ফ্লো ক্যানুলা সংকট
* এবার চোখ রাঙাচ্ছে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্ট্রেইন

বাঙলা প্রতিদিন: এখন দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও ভয় কমছে না। সরকারও তার সর্বস্ব দিয়ে নানা কৌশলী ভ‚মিকা গ্রহণ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। লকডাউন নামে নানাবিধ নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা কিছুটা বেড়েছে। এরই মধ্যে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ৫ মে পর্যন্ত। তবে এরমধ্যেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বেড়েছে। ভারতীয় ভয়ংকর এই ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা।

দেশে গত বছরের মার্চ মাসে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর বিভিন্ন সময় ভাইরাসটির দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও নাইজেরিয়ান ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। এই ধরনগুলোকে তুলনামূলক কম সময়ে দ্রæতগতিতে সংক্রমণ ছড়াতে দেখা গেছে। এ ধারাবাহিকতায় এবার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শনাক্ত হওয়া ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ভ্যারিয়েন্ট বা বেঙ্গল স্ট্রেইন’ বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ধরনটিতে সংক্রমিত হয়ে ভারতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত ও প্রাণ হারাচ্ছেন।

এক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সামান্য অসচেতনতায় প্রাণঘাতী বেঙ্গল স্ট্রেইন বা ধরনটি যে কোনো মুহূর্তে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি রোধে সরকারের গৃহীত কর্মসূচিগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে আরও বেশি জোর দিতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ৩০টি জেলা রয়েছে।

এসব অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশটির অনেকের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছাড়াও সীমান্ত হাট, বাজার, মেলা ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ রয়েছে। যা বন্ধ করতে না পারলে একে অপরের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে যে কোনো সময় নতুন ধরনটির মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে, করোনার মাঝারি উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেক রোগীরই এখন ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আকস্মিক তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। তাদের অক্সিজেন লেভেল ৭৫ শতাংশের নিচে নেমে আসছে। এ অবস্থায় সাধারণ অক্সিজেন দিয়ে এসব রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা অসম্ভব। তাই তাদের অনেককেই হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দিয়ে অক্সিজেন দেওয়ার দরকার হচ্ছে। অথচ অধিকাংশ হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক এ সরঞ্জাম নেই। ফলে এ ধরনের বিপুলসংখ্যক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে।

ভারতীয় ভেরিয়েন্ট ঠেকাতে প্রয়োজনী কিছু পদক্ষেপ নিয়ে সরকার। মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার। ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। তারপরও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদেরকে এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

নিজস্ব অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করতে হবে। কারণ, ভারত ইতোমধ্যে অক্সিজেন রফতানি বন্ধ করেছে। ভারতে করোনায় মৃত্যু ক্রমেই বাড়ছে। সেখানে মেডিক্যাল অক্সিজেন, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং ওষুধের মারাত্মক অভাব দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনেই ভারতে ১০ লাখের বেশি নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পরিমাণ আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সরকারিভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে তার চেয়ে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি।

ভারতের অবস্থা দেখে স্বাস্থ্য অধিদফতর ইতোমধ্যে জানিয়েছে, কোনোভাবেই যেন ভারতীয় এই ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে না পৌঁছায়। একইসঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মানুষ যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানে তাহলে বাংলাদেশের অবস্থাও ভারতের মতো হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, সীমান্ত বন্ধসহ যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেগুলো সব যদি কিছুদিন থাকে তাহলে হয়তো ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টকে আটকানো যাবে। ভারত এখন সংক্রমণের পিকে চলে গেছে, পিক থেকে ডাউন ফল হবে। সেক্ষেত্রে এটা আরও মিউটেশন হয়ে গিয়ে কোল্ডও হয়ে যেতে পারে। আমাদেরকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, একইসঙ্গে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো মেনে চললে আমরা হয়তো ঠেকাতে পারবো।

তিনি বলেন, তাদের নির্বাচন হয়েছে, বিভিন্ন রকমের মেলা হয়েছে। এসব কারণে ওখানে সংক্রমণ সেখানে বেশিই হয়ে গেছে। আর অনেক বেশি ট্রান্সমিশন হলে মৃত্যুও বেশি হবে। তবে যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানা হয়, তাহলে আমাদের অবস্থা ভারতের মতোই হবে। আমরা যদি ডাবল বা ট্রিপল মিউটেশনের মধ্যে পরে যাই তাহলে আমাদের অবস্থা কী পরিমাণ ভয়ঙ্কর হবে সেটা চিন্তা সবাই চিন্তা করবেন।

মার্চের শুরুতে দেশে রোগী সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বগতিতে চলে যায়। সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় একদিনে ১১২ জনের। মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার হয় মাত্র ১০ দিনে। তখন চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালে সাধারণ বেড পায়নি মানুষ, আইসিইউ ছিল সোনার হরিণ। সেখানে ভারতীয় এই ভ্যারিয়েন্ট দেশে এলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সে চাপ নিতে পারবে কিনা প্রশ্নে অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, ‘সংক্রমণ বেশি হলে যেকোনও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই ভেঙে যায়। এটা উন্নত বিশ্বেও হয়েছে ভারতেও হয়েছে। ইতালি-আমেরিকা সাফার করছে।

আর আমাদের অবস্থা তো কখনোই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মতো ছিল না। এরকম অবস্থা হলে সবাইকেই সাফার করতে হবে। যশোর হাসপাতাল থেকে ভারত থেকে আসা রোগীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদেরকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু এরা যদি মিক্সিং আপ করে তাহলে সমস্যা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘বাংলাদেশে এটা চলে এলে খুবই ভয়াবহ অবস্থা হবে। বাংলাদেশ যদি সচেষ্ট হয়, সম্মিলিতভাবেভাবে চেষ্টা করে তাহলে এর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এজন্য আরো কঠোর হতে হবে।

ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট এসেছে বলেই আশঙ্কা: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই মতো বাংলাদেশে এই ভ্যারিয়েন্ট ইতোমধ্যেই ঢুকে গেছে। আবু জামিল ফয়সাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এই ভ্যারিয়েন্ট অনেক আগেই শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টা তো এমন না যে, ইন্ডিয়াতে কাল শনাক্ত হয়েছে, কালকেই আমরা বর্ডার বন্ধ করেছি।

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ছয়টি স্থলবন্দর রয়েছে যেখান থেকে পণ্যবোঝাই হয়ে ভারত আসে শ’য়ে শ’য়ে ট্রাক আসে, এগুলো কিন্তু বন্ধ করা হয়নি। এসব ট্রাকের চালকসহ অন্যদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে। যদিও সে ব্যবস্থা নেই সেখানে। অথবা তাদেরকে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের আওতায় আনতে হবে। যদি তাদের মধ্যে কেউ শনাক্ত হন তাদেরকে যেন আইসোলেশনে রাখা যায়।

অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, যেহেতু প্রতিবেশী দেশ, এমনকি এয়ার ট্রাভেল বন্ধ করার আগেও চলে আসতে পারে। এই ভ্যারিয়েন্ট ইন্ডিয়াতে বহুদিন আগে ডিটেক্ট হয়েছে, তাই এয়ার ট্রাভেল বন্ধ হওয়ার আগে আসাও অসম্ভব নয়। আর আমাদের এখন কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং হচ্ছে না, তাই পুরোপুরি জানিও না আমাদের দেশে এসছে কিনা।

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় অন্তত তিনটি কাজ করতে হবে বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধির কোনও বিকল্প নেই এটা শুরু থেকেই বলে আসা হয়েছে। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং ভিড়ের মধ্যে না যাওয়া কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে, এখন সময় এসছে সাধারণ মানুষকে সরকার বাধ্য করাবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ না হলে এটা কেবল কঠিন নয় অসম্ভব বলেও মন্তব্য তাদের। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

আবু জামিল ফয়সাল বলেন, অক্সিজেন উৎপাদনের কোনও বিকল্প এই মুহূর্তে নেই। অক্সিজেন উৎপাদন করে যেখানে অক্সিজেনের প্রয়োজন হবে সেখানে যেন অক্সিজেন নেওয়া যায় সে ব্যবস্থা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে হবে এবং এর কোনও বিকল্প নেই। মানুষকে কাজে লাগতে হবে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলা নির্ভর করছে কেবলমাত্র পরিকল্পনার ওপর। পরিকল্পনা করে কাজ করলে হয়তো এটা সামাল দেওয়া যাবে। করোনা সংক্রমণ রুখতে রোগীকে আইসোলেশন, রোগীর সংস্পর্শে আসাদের ট্রেসিংয়ের কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু এখানে কাজ হচ্ছে না ঠিকমতো।

করোনা ভাইরাসের স্ট্রেইন সর্ম্পকে জানার উপায় জিনোম সিকোয়েন্সিং। বাংলাদেশে এখন বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান করোনার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের কাজ করছে।

তার মধ্যে অন্যতম চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও অনুজীব বিজ্ঞানী ডা. সমীর কুমার সাহা বলেন, চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন যখন সিকোয়েন্সিং করে তখন সেটা পাঠিয়ে দেওয়া হয় গ্রোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (GISAID-Global Initiative on sharing all influenza data) তে।

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে প্রস্তুতি কতটুকুু জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশে গ্যাস অক্সিজেনের অভাব নেই। কেবল করোনাকালেই আমদানি করার প্রয়োজন হয়েছিল লিকুইড অক্সিজেন। বর্তমানে যে পরিমাণ রোগী আছে আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে রোগী যদি ৭ হাজারের জায়গায় ২১ হাজার হয় তাহলে কিন্তু সংকট হবে। শুধু এই দেশ না, যেকোনও দেশেই সংকট হবে।তবে বাংলাদেশের প্রস্তুতি যতটুকু রয়েছে সেটা সবারই জানা। রাতারাতি হাসপাতাল নির্মাণ করা চিকিৎসক বানানো যাবে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা স্থাপনা এবং জনবল সবদিক দিয়ে ক্যাপাসিটির সবটুকু ইউটিলাইজ করে ফেলেছি। সবদিকে আমরা পিকে চলে গেছি, পিকে যাওয়ার পরে যদি আরও প্রেশার আসে তাহলে তখন আর আমাদের জন্য লোড নেওয়া সম্ভব হবে না।

দেশে সরকারিভাবে রোগ নিয়ে কাজ করে রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আইইডিসিআর কিছু জানিয়েছে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, আইইডিসিআর এখনও তাদেরকে কিছু জাানায়নি। এখনও কোনও রিপোর্ট আমাদেরকে তারা দেয়নি।

এদিকে, করোনায় মৃত্যুর হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার স্বল্পতাকেই দায়ী করেছেন। তারা জানান, দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক এ সরঞ্জাম এবং তা পরিচালনায় দক্ষ জনবল থাকলে করোনায় মৃত্যুর হার অনায়াসেই আরও বেশ খানিকটা কমিয়ে আনা যেত।

বিষয়টি স্বীকার করে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংকট এতটাই তীব্র যে, প্রয়োজনের সময় তা পাওয়া রীতিমত সৌভাগের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের মধ্যে এ নিয়ে রীতিমত কাড়াকাড়ি পড়ে গেছে। একজন রোগী সুস্থ হলে কিংবা মারা গেলে আরেকজন রোগী হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা পাবেন, এ অপেক্ষমাণ তালিকা প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে। দেশের করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত দেশে তিনটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ফেব্রুয়ারিতে বি.১.৩৫১ বা ৫০১.ভি২ নামে পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। এছাড়া জানুয়ারিতে বি.১.১.৭ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের আরেকটি ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করেন গবেষকরা। ১১ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে সংগ্রহ করা নমুনায় আরেকটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্টটির নাম বি.১.৫২৫। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে এটি প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়। একই মাসে নাইজেরিয়াতেও পাওয়া যায় ভ্যারিয়েন্টটি।

গেলাবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটার (জিআইএসএআইডি) তথ্য অনুসারে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের একাধিক গবেষণাগারে এই ভ্যারিয়েন্টের আটটি নমুনা পাওয়া গেছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, নতুন এই তিনটি ভ্যারিয়েন্টই অতিমাত্রায় সংক্রামক এবং অ্যান্টিবডিকে ফাঁকি দিতে ভাইরাসকে সাহায্য করে।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মূলত এসব ভ্যারিয়েন্টের কারণেই তৈরি হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত রোগীর হঠাৎ অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার নেপথ্যেও নতুন ভ্যারিয়েন্টকে দায়ী করেন তারা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন আইসোলেশন ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার খান যায়যায়দিনকে বলেন, হাসপাতালে শ’খানেকের মতো হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে। কিন্তু হাসপাতালে প্রায় সময়ই এক হাজার করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি থাকছে। এদের মধ্যে অনেক রোগীর হঠাৎ করেই অক্সিজেন কমে যাচ্ছে। তখন তুলনামূলক একটু ভালো রোগীর ক্যানুলা খুলে যার বেশি প্রয়োজন তাকে দেওয়া হচ্ছে। এই টানাটানিতে চিকিৎসা সেবা যথেষ্ট ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা রয়েছে মাত্র ২০টি। এর মধ্যে ৭/৮টি কাজ করে না। ফলে ১২/১৩টি ক্যানুলা দিয়ে কোনো রকমে কাজ চালানো হচ্ছে। হাসপাতালে রোগীর চাপ অনুযায়ী আরও অন্তত ৫০টি ক্যানুলা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ৩০টি মেশিনের জন্য চাহিদা পত্র দিয়েছেন। তবে তা কবে নাগাদ পাওয়া যাবে সে ব্যাপারে তারা কিছু জানাতে পারেননি। হাসপাতালটিতে হাই ফ্লো ক্যানুলা পরিচালনার মতো দক্ষ জনবলেরও অভাব রয়েছে।

এদিকে ঢাকার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে স্বল্পসংখ্যক হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা থাকলেও অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে তা পর্যাপ্ত নেই। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে এর সংখ্যা অনেকটাই শূন্য। এ কারণে রোগীর হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দরকার হলেই স্বজনরা তাকে নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা রয়েছে মাত্র ১ হাজার ১৫৮টি। অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আছে ৯৫৮টি। অথচ করোনা আক্রান্ত রোগীর স্যাচুরেশন ৮০ থেকে ৬৫ শতাংশে নামলেই হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দিয়ে অক্সিজেন দেওয়া দরকার।

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা এবং হাই মাস্কসহ অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে সংকটাপন্ন রোগীদের শতকরা ৯০ শতাংশকেই কাভার করা যায়। কিন্তু অধিকাংশ হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা যেহেতু আইসিইউতেই আছে, এ কারণে আইসিইউর দরকার হচ্ছে বেশি।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, মৃত্যুর হার বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগের। এর নেপথ্য কারণ শনাক্তে তারা নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন; মৃত্যুগুলো পর্যালোচনা করছেন। এতে দেখা গেছে, নানা জটিল রোগে আক্রান্ত বয়স্কদের করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে শেষ অবস্থা না হলে তারা হাসপাতালে আসছেন না। শরীরের বেশকিছু অর্গান ফেল করার পর তারা হাসপাতালে আসেন। তখন আর তাদের জন্য কিছু করার থাকে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজা রিফাত মনে করেন, দেশে জীবনযাত্রার সবকিছু স্বাভাবিক করে দেওয়ায় মানুষের ভয় কমে গেছে। এছাড়া চিকিৎসা নিয়ে মানুষের আস্থার অভাব রয়েছে। এই দু’টি কারণে মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে চায়। এই পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে কর্তৃপক্ষ এর ভয়াবহতা সম্পর্কে বার্তা দিতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি।

বাঙলা প্রতিদিনে সর্বশেষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত
জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
নতুন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন
আপনার সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছি : মির্জা ফখরুলকে ভারতের রাষ্ট্রপতি
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দুজন
শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতি আনতে চায় বাংলাদেশ-ভারত
তথ্যমন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘে বাংলাদেশের মনোনীত স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানের সাক্ষাৎ
মোদীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দীনেশ ত্রিবেদী
শহীদদের ত্যাগে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী
মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন
ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবসে শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
প্রাণী চিকিৎসায় মানসম্মত ওষুধ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
কিশোরগঞ্জের উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
২৪১ একর নদীর জমি দখল, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনে তোলপাড়
সমাজের প্রত্যেক স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সর্বশেষ - খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত

জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

নতুন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন

আপনার সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছি : মির্জা ফখরুলকে ভারতের রাষ্ট্রপতি

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দুজন

শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতি আনতে চায় বাংলাদেশ-ভারত

তথ্যমন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘে বাংলাদেশের মনোনীত স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানের সাক্ষাৎ

মোদীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দীনেশ ত্রিবেদী

শহীদদের ত্যাগে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন

ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবসে শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

প্রাণী চিকিৎসায় মানসম্মত ওষুধ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

*বায়ুদূষণ কমাতে ছুটির দিনেও রাস্তায় পানি ছিটায় ডিএনসিসির স্প্রে ক্যানন*

ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রমজানেও ঢাকাতে তীব্র গ্যাস সংকট!

রিয়েল এস্টেট সেক্টরে কনকর্ড সর্বোচ্চ ক্রেডিট রেটিং অঅ+ অর্জন করেছে

লুহানস্কের ৮০ শতাংশ দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী : স্থানীয় গভর্নর

সুশান্তের সহ-অভিনেতা সন্দীপ নাহার আর নেই

নারীদের অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল ক্ষমতায়নে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে মেটা ও তাদের পার্টনাররা

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের দ্বিতীয় বৈঠক চলছে

গাজীপুরে ঝুটের গুদামে আগুন

ডিএনসিসি মেয়র’স কাপ দ্বিতীয় আসরের ভলিবল খেলার উদ্বোধন