দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা
বাঙলা প্রতিদিন প্রতিবেদক :
চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে অবস্থান নেওয়া ইবতেদায়ি শিক্ষকদের ওপর জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে সাড়ে ১২টা নাগাদ রাজধানীর প্রেসক্লাব থেকে হাইকোর্ট মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে শাহবাগে শিক্ষকদের পদযাত্রা পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশের হামলায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এরমধ্যে তাৎক্ষণিক পরিচয় পাওয়া আহত ব্যক্তিরা হলেন আনোয়ার হোসেন (৩৫), ফরিদুল ইসলাম (৩০), আমিনুল (৩৫), মিজানুর রহমান (৩৫), বিন্দু ঘোষ ও মারুফা আক্তার (২৫)। তাঁরা সবাই ইবতেদায়ি শিক্ষক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অন্য আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইবতেদায়ী শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল। তবে সেখান থেকে কোনো প্রকার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন ইবতেদীয়া মাদরাসা শিক্ষক ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান কাজী মোখলেসুর রহমান।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সচিবালয় থেকে এসে তিনি একথা জানান। কাজী মোখলেসুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি। তারা বলেছেন আমরা আপনাদের পক্ষ থেকে দাবি-দাওয়া শুনেছি। লিখিত আকারে কাগজপত্র নিয়েছি।
আগামীকাল সোমবার আমাদের মিটিং আছে আমরা আমাদের জায়গা থেকে প্রধান উপদেষ্টা এবং শিক্ষা সচিবের সঙ্গে বসবো এবং তাদেরকে এই মেসেজ জানাবো। এরপর মেসেজ অনুযায়ী আপনাদের শিক্ষা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিব।
তিনি বলেন, আমরা সেখান থেকে বের হয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় অথবা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আমাদের শিক্ষকদের দাবি জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে। আমরা এখানে আগামীকাল (সোমবার) পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এর মধ্যে যদি সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত না আসে তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিব।
সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুপারিশের আলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের ঘোষণাসহ ছয় দফা দাবিতে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট।
ঢাকা মেডিকেলে ঝালকাঠি থেকে আসা দপদবিয়া শেখবাগল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে ১৯ তারিখ থেকে প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি করে আসছিলাম।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা ও স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণাও দেন তারা। চাকরি জাতীয়করণ ছাড়া অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা নিবন্ধন স্থগিতাদেশ ২০০৮ প্রত্যাহার করা, রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত কোড বিহীন মাদরাসাগুলো মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক কোড নম্বরে অন্তর্ভুক্তকরণ, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করা, পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি, বেতন-ভাতা, নীতিমালা-২০২৫ অনুমোদন করা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো অফিস সহায়ক নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া।
শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, “তারা স্মারকলিপি দিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যেতে চাইলে জাদুঘরের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। পরে শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনে অবস্থান নিয়েছেন।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। শাহবাগ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আন্দোলনকারীরা এক জায়গায় একত্রিত না থাকলেও শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করে।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে;
১. স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা নিবন্ধন স্থগিতাদেশ ২০০৮ প্রত্যাহার করা।
২. রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত কোডবিহীন মাদরাসাগুলো মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক কোড নম্বরে অন্তর্ভুক্তকরণ।
৩. স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার আলাদা নীতিমালা।
৪. পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি, বেতন-ভাতা, নীতিমালা-২০২৫ অনুমোদন।
৫. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো অফিস সহায়ক নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া।
৬. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি খোলা অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া।


































